মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৩৯:৪২

এবার যে প্রক্রিয়া চালু মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে

এবার যে প্রক্রিয়া চালু মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিতর্কিত পদ্ধতি 'তুরাপ' (দ্য ইউনিভার্সেল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম) আবারও চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কার্যকারিতা নিয়ে আপত্তির মুখে এক মাস স্থগিত থাকার পর, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অ্যাপটি বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) পুত্রজায়ায় শিল্প অংশীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান পদ্ধতিতে একেকজন কর্মীর মালয়েশিয়ায় আসতে প্রায় ২৫ হাজার রিঙ্গিত খরচ হচ্ছে। এই শোষণমূলক 'শিকারী কাঠামো' এড়াতে এবং নিয়োগকর্তাদের সাথে সরাসরি বিদেশি কর্মীদের যোগাযোগ করিয়ে দিতে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে 'তুরাপ' ব্যবহার করা হবে।

 তবে তৃণমূল পর্যায়ের দালালদের দৌরাত্ম্য ও শোষণ এই অ্যাপ কীভাবে দূর করবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

 এই পদ্ধতিটির উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি, যারা ২০১৮ সাল থেকে মালয়েশিয়া সরকারের বহুল আলোচিত এফডব্লিউসিএমএস পদ্ধতিটি পরিচালনা করছে। তবে এই তুরাপ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বেস্টিনেটের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম আবদুল নূরের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে অভিযোগ করা হয়, এফডব্লিউসিএমএস-এর মাধ্যমে মাত্র ১০২টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে একচেটিয়া ব্যবসা ও শোষণ চালানো হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে অর্থ পাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে তাদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। 

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পরপরই এই কূটনৈতিক ও কৌশলগত দৃশ্যপটে নতুন মোড় এসেছে। সফরের পর দুই দেশই বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নতুন কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 
তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলামের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাননি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে